যুদ্ধ ও ইতিহাস নিয়ে মুভি রিভিউ পর্ব_ ১.

যুদ্ধ ও ইতিহাস নিয়ে মুভি রিভিউ পর্ব: ১

আজকে আমি যুদ্ধ ও ইতিহাস নিয়ে ইতিহাসের সেরা কয়টি মুভি রিভিউ করবো, আশা করি মুভি গুলা আপনাদের কাছে ভালো লাগবে। চলুন তাহলে শুরু করা যাক।

১. 1944 (2015) মুভি রিভিউ:

Genre: War,History
IMDB:7.8
Country: Estonia, Germany

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষের দিকের যুদ্ধ গুলি মুলত খুব ঘন ও রক্তক্ষয়ী ছিল। এখানে ৪৪ সালের দিকে ইস্টার্ন ফ্রনটের যুদ্ধটাই মুল কেন্দ্রবিন্দু। এখানে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বেশ ঘন ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ দেখানো হয়েছে। ইতিহাসের অনেক কিছুই আসলে আমাদের কাছে অজানা বিশেষ করে আমেরিকা নির্মিত ফিল্মগুলিতে সাধারণত কোনও ব্যক্তি বা হিরোকে মুল সাব্জেক্ত হিসেবে ব্যাবহার করে মুভি বানানো হয়, যার ফলে ইতিহাসের পরিবর্তে ওই হিরোর উপরেই সবার মুল ফোকাসটা থাকে যার দরুন অনেক অজানা বিশয় অজানাই থেকে যায়। তবে অন্যান্য ইনডাসটির ক্ষেত্রে বিশয়টা একটু ভিন্ন বললেই চলে। এখানে যুদ্ধ আর একশনটাকে যেভাবে সুন্দর ভাবে দেখানো হয়েছে ইতিহাসটাকেও একই ভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে।

(No Spoiler)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মাঝামাঝি সময়ে এস্তোনিয়া আক্রমন করে রাশিয়া অর্ধেক এস্তোনিয়া চলে যায় সোভিয়েত রেড আর্মির কবলে। ৭০ হাজার এস্তোনিয়ান জার্মানির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে রাশিয়ার সাথে যোগ দেয়। ওপর দিকে পশ্চিম পার্শ্বে জার্মানির নিয়ন্ত্রনে থাকা অর্ধেক এস্তোনিয়ান এলাকা গুলি থেকে প্রায় ৫০ হাজার এস্তোনিয়ান জার্মানির পক্ষে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দেয়। সে সময় এস্তোনিয়ার পাশাপাশি ফিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক জার্মানির হয়ে যুদ্ধের ময়দানে জার্মানিকে একতরফা সাপোট দিয়ে আসছিল। এখানে ফিল্মের প্রথম ভাগ জার্মান আর্মিতে যোগ দেয়া ফিনিশ,ডেনিশ,ও এস্তোনিয়ানরা রাশিয়ার বিরুদ্ধে কিভাবে যুদ্ধ করেছিল তা দেখানো হয় বাকি অর্ধেক অংশ রাশিয়ান আর্মিতে যোগ দেয়া এস্তেনিয়ানদের জার্মানির বিরুদ্ধে লড়তে দেখানো হয়। দু পাশের প্রিস্পেক্তিভ নিয়ে বানানো সিনেমাটি রিলিজের সাথে সাথে বক্স অফিস মাতায়। এখানে ফিল্মের শুরু থেকে শেষ অবদি যুদ্ধ দেখানো হয়েছে।

২. The Border (2011) মুভি রিভিউ

Genre: War,Drama,History
IMDB:6.7
Country: Sweden
Language: Swedish, German

Gransen (The Border) এটা একটি সুইডিশ ফিল্ম। এটা খুব সম্ভবত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে কেন্দ্র করে নির্মিত প্রথম কোন সুইডিশ ফিল্ম কারন এর আগে সুইডেনকে কখনো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে সিনেমা করতে দেখিনি যুদ্ধ চলাকালীন সুইডেন একটি neutral country ছিল। মুভি দেখে শেষ করার আগ পর্যন্ত কেমন একটা আমতা আমতা ভাব ছিল যে একটা neutral দেশ যেটা যুদ্ধে জড়ায়নি তাদের এ বিশয় নিয়ে বানানো মুভি কেমন হতে পারে,প্রিস্পেক্তিভটাই বা কেমন হবে তা যাই হক নিরাশ করেনি। বেশ সুন্দর একটা ফিল্ম ছিল এক কথায় দারুন। এই ফিল্মের মেকিং এর সাথে twelve man সিনেমাটার বেশ মিল রয়েছে। দুটোতেই একশ্যন আর টানটান উত্তেজনা বা থ্রিলের কোন অভাব ছিলোনা পাশাপাশি ঘন বরফে ঢাকা অঞ্চলে সার্ভাইভেরও একটা বিষয় আছে।।সব মিলিয়ে ফাটাফাটি,যুদ্ধের ফিল্ম হিসেবে বেশ ইঞ্জয় করার মতো।

(হাল্কা স্পয়লার)

নিরপেক্ষ দেশ হয়ার দরুন সুইডেন যুদ্ধে জড়ায় নি তবে কিছু সুইডিশ আর্মি অফিসারেরা বরাবরি নরওয়ের বরডার অঞ্চলে নজর রেখে চলছিল। নরওয়ে তখন জার্মানির দখলে। সিলাফ ও তার দলকে একটা ছোট মিশনের কাজ দেয়া হয় মিশন মানে বরডার সংলগ্ন এলাকায় জার্মানদের গতিবিধির ওপর নজর রাখা। ঘন তুষারের দরুন কাজটা ক্রমেই কঠিন থেকে কঠিমনতর হয়ে উঠছিল। একদিন তাদের দুই সহকর্মী বরডারে টহল দিতে গিয়ে আর ফেরত আসেনা। তাকে খুজতে দল নিয়ে বেরিয়ে পরে প্রধান অফিসার। অনেক খোজাখুজির পর জংগলের ভেতরে তাদের এক জনের ঝুলন্ত ও বিকৃত লাশ পাওয়া যায় বাকি একজন নিখোজ থাকে। এদিকে তাদের মতিগতি ও গতিবিধি বুঝে ফেলে ওই অঞ্চলে টহলরত জার্মান সেনারা। প্লান সাজিয়ে তার পরের দিনই তাদের ওপর সশত্র ভাবে চরাও হয় জার্মান সেনারা। শুরু হয় থেকে থেকে যুদ্ধ। এই হল প্রাথমিক ধারনা। সিনেমার কন্সেপট থেকে শুরু করে থ্রিল,একশ্যন,অভিনয়,রাইটিং সব কিছু পারফেক্ট ছিল আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। সিনেমাটাতে একশনের কোন অভাব নেই।

আজকের রিভিউ ছিলো দুইটা মুভি আশা করি সামনে এরকম আরো অনেক মুভি রিভিউ নিয়ে আপনাদের মাঝে হাজির হবো। সে পর্যন্ত ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন। ধন্যবাদ।

About the Author: Amar Subtitle

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *