সেরা চারটি হরর মুভি রিভিউ

সেরা ৪ টি হরর মুভি রিভিউ

হ্যালো বন্ধুরা, আশা করি আপনারা সকলে ভালো আছেন, আর আমিও ভালো আছি। আজকে আপনাদের জন্য আমার দেখা চারটি হরর মুভির রিভিউ নিয়ে হাজির হলাম। আশা করি আপনারা সকলে রিভিউ গুলা পড়ার পর ভালো লাগলে মুভি গুলা দেখতে বসে যাবেন। চলেন তাহলে আমার আজকের শর্টখার্ট ৪টি মুভির রিভিউ দেখে নেওয়া যাক।

1. The Devil’s Candy (2015) (যুক্তরাষ্ট্র)

Dir – Sean Byrne / IMDb – 6.4/10
আমার দেখা এই বছরের বেস্ট একটা হরর মুভি। মাত্র ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিটের মুভি শেষ হওয়ার পরও মনে হয়েছে আরো ১০-১৫ মিনিট বাড়ানো যেতো। কাহিনী এক মানসিক রোগীকে ঘিরে যে নিজের বাসায় এক অদ্ভুতুড়ে আওয়াজ শুনতে পেতো। একবার ঐ আওয়াজটা এতই বেড়ে যায় যে, সে আর নিজের মানসিক ভারসাম্য রাখতে না পেরে নিজের মাকেই হত্যা করে বাসা থেকে পালিয়ে যায়। কয়েক মাস পরই ঐ বাসাতে এক তিন সদস্যের পরিবার থাকতে আসে। বাকি ঘটনা কি ঘটতে পারে সেটা কিছুটা আন্দাজ হয়তো করতে পারছেন। তবে বিশ্বাস করুন, মুভিতে এর চেয়েও অনেককিছু পাবেন। দুর্দান্ত অভিনয়, সিনেমাটোগ্রাফি আর কাহিনী আপনাকে মুগ্ধ করতে বাধ্য। মুভি কখন শুরু হয়ে কখন শেষ হবে তা বুঝতেই পারবেন না।

2. Dark Water (2002) (জাপানিজ

Dir – Hideo Nakata / IMDb – 6.7/10

জাপানিজ হরর মুভিগুলো যে কতটা র এবং টেরিফাইং থাকে, যেটা আমাদের সবারই জানা। যদি কখনোই কোনো জাপানিজ হরর মুভি না দেখে থাকেন, তাহলে অনুরোধ করবো ‘Dark Water’ দিয়ে শুরু করতে। কাহিনী আরম্ভ হয় এক বিবাহ বিচ্ছেদের মধ্য দিয়ে। যেখানে তালাকের সময় মা, পরিবারের একমাত্র ছোট মেয়ের দায়িত্ব পায়। যদিও একা মায়ের পক্ষে মেয়েকে লালনপালন করা সম্ভব ছিল না। তবুও এক কম ভাড়ায় মা – মেয়ে এক বাসায় উঠে। কিন্তু, ঐ বাসাতে উঠার পর থেকে ঘটছে থাকে বহু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। এছাড়া, মা প্রায়ই সেই বিল্ডিং এ এক ছোট্ট মেয়েকে দেখা শুরু করে। এখন বাসার ভেতর পানি পড়ার সমস্যার পাশাপাশি ঐ মেয়ের ইতিহাস খুঁজতে গিয়ে মা কিছুটা আজব আচরণ করতে থাকে। এখন বাকি ইতিহাস তো মুভি দেখলেই জেনে যাবেন। মুভির ক্লাইম্যাক্সে বিশাল এক টুইস্ট আছে, যা গল্পের মোড়টাই ঘুরিয়ে দিবে। পরিচালনা ও অনবদ্য সিনেমাটোগ্রাফি আর হালকা হাড় কাঁপানো মিউজিক মুভিটিকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে।

3. The Eyes Of My Mother (2016) (যুক্তরাষ্ট্র)

Dir – Nicolas Pesce / IMDb – 6.2/10

৭৭ মিনিটের এই সাদাকালো সাইকোলজিক্যাল হরর মুভি হরর জনরাকে অন্যভাবে উপস্থাপন করেছে। টিপিক্যাল ও ট্রেডিশন্যাল হরর থেকে সরে এসে পরিচালক ভিন্ন কিছুই উপহার দিয়েছেন ‘The Eyes Of My Mother ‘ মুভির মধ্য দিয়ে। কোনো জাম্পস স্কেয়ার না থাকলে ভালোই ভয় দেখাতে সক্ষম মুভিটিকে। এর প্রধান কারণ সিনেমাটোগ্রাফি। দেখতেই পারছেন, সব মুভিকেই ইউনিক বানাচ্ছে এর শট সিলেকশন। কাহিনী সম্পর্কে কিছুই বলবো না। কারণ আমিও দেখার সময় তেমন আশা করিনি যা মুভিটি দিয়েছে। তাই একদম ভিন্ন ধারার ভূতপ্রেত ছাড়া মুভি দেখতে চাইলে ‘The Eyes Of My Mother’ হবে আপনার সেরা অপশন।

4. The Eye (2002) (হংকং)

Dir – Pang Brothers / IMDb – 6.7/10

এ যাবৎকালের এশিয়ার ১০ টি সেরা হরর মুভিগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে ‘The Eye’। একেবারে নতুন কনসেপ্টে ঐ সময়ে এমন হরর মুভি খুব কমই নির্মাণ হতো। সেইদিক থেকে বেশ নাম কুড়িয়েছিল মুভিটি। প্রধান ক্যারেক্টারের অভিনয় এবং ইউনিক কাহিনীর জন্য ‘The Eye’ এখনো হরর জনরাতে নিজের রাজত্ব টিকিয়ে রেখেছে। মূল গল্প এক অন্ধ মেয়েকে ঘিরে, যে সদ্য নিজের কর্নিয়ার ট্রান্সপ্লান্ট করিয়েছে। কিন্তু, চোখে দেখা শুরু হতে না হতেই সে বিভিন্ন আত্না দেখতে শুর করে দেয়। আর এই নিয়েই এগোতে থাকে গল্প। ২০০৮ সালে হলিউডে একই গল্প ও নামে মুভি হয়েছিল, যেখানে Jessica Alba মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন। তবে আমি অরিজিনালটাই দেখার রিকোমেন্ড করবো। ‘The Eye’ মুভিটি ইউটিউবেই ইংরেজি সাব সহ পেয়ে যাবেন।

তো এই ছিল, করোনাকালীন সময়ে আমার দেখা ৪টি অন্যতম হরর মুভি। লিস্টটা আমি এভাবেই বানিয়েছি যাতে, কেউ যদি হরর মুভি দেখে না, কিন্তু দেখার ইচ্ছা আছে তারা এগুলো দিয়ে শুরু করতে পারে। এতটুকু গ্যারান্টি দেয়া যায়, উপরোক্ত কোনো মুভিই আপনাকে নিরাশ করবে না। আর বাকিটা আপনার পছন্দ ও স্বাদের উপর নির্ভর করে। আরেকটা কথা হলো, এসব হরর মুভি দিনের আলোয় ভীড়ের মাঝে দেখে কোনো মজাই পাবেন না। রাতের অন্ধকারে নিস্তব্ধ পরিবেশে দেখার চেষ্টা করবেন।

About the Author: Amar Subtitle

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *