Dracula Sir

Dracula Sir মুভি রিভিউ

হ্যালো বন্ধুরা আশা করি ভালো আছেন, আজকে আপনাদের জন্য Dracula Sir মুভিটির রিভিউ নিয়ে হাজির হয়েছি। চলুন তাহলে শুরু করা যাক।

Dracula Sir মুভি রিভিউ

কিছু ইনফো:

Duration: 124 minutes
Direction: Debaloy Bhattacharya
Cast: Anirban Bhattacharya,Mimi Chakraborty,Bidipta Chakraborty,Rudranil Ghosh,Supriyo Dutta,Pradip Mukhopadhyay,Samiul Alam,Shrijato Bannerjee
Genre: Psychology thriller & Drama
Language: Bengali
IMDB Rating: 7.2
Personal Rating: 8

“ড্রাকুলা” বা “ভ্যাম্পায়ার” বলতে এমন এক পৌরাণিক প্রাণীকে বুঝায় যা বড় বড় দাঁত বিশিষ্ট এবং অন্যান্য প্রাণী র রক্ত খেয়ে জীবনধারণ করে। “ড্রাকুলা” শব্দ টি প্রথম ব্যবহার করা হয় ১৮৯৭ সালে আইরিশ লেখক ব্রাম স্টোকার রচিত একটি উপন্যাসে। পরবর্তীতে অনেক ভাষার সাহিত্যেই “ড্রাকুলা” নিয়ে লেখা হয়েছে।বাংলা সাহিত্যও ব্যতিক্রম নয়। বাংলা সাহিত্যে “ড্রাকুলা” ভিত্তিক উপন্যাসের মধ্যে হরিদাস বন্দ্যোপাধ্যায় এর “কলকাতার ড্রাকুলা” অন্যতম। সেই “ড্রাকুলা” উপজীব্য করে দেবালয় ভট্টাচার্য ২০২০ সালে নির্মাণ করেন “ড্রাকুলা স্যার” চলচ্চিত্র টি।

রক্তিম চৌধুরী একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অস্থায়ী বাংলা শিক্ষক।দুধ দাঁতের বড় বড় দুটি দাঁত না ফেলায় তিনি দেখতে “ড্রাকুলা” দের মতো হয়ে যান।সবাই তাকে “ড্রাকুলা স্যার” বলেই ডাকে। সামাজিকভাবে না আমরা সবাই আলাদা হতে খুব ভয় পায়।সবাই একটা দলে থাকতে চাই।একে বলে মিডিওক্রিটি।তার মধ্যে কেউ যদি একটু আলাদা হয়ে যায়,ব্যাস!সবাই threat feel করে।সবাই তখন চায় ব্যক্তিটিকে নিজের দলে টানতে।

ফলস্বরূপ রক্তিম সমাজ থেকে পরোক্ষভাবে ই আলাদা হয়ে যায় এবং এক সময় তার অস্থায়ী চাকরিও চলে যায় এবং সে নিজের জন্য শক্তি খুঁজতে থাকে !

ফিকশন টি তে ২০২০ সালের রক্তিমের সাথে ১৯৭১ সালের একটি ঐতিহাসিক ঘটনার অমল সোম চরিত্র কে সামঞ্জস্য রেখে চিত্রনাট্য সাজানো হয়।

৭০ দশকে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি কর্তৃক পুঁজিবাদী শোষণহীন সমাজের বিরুদ্ধে এক আন্দোলন পরিচালনা করা হয় যা আজ পর্যন্ত চলমান। একে “নকশাল আন্দোলন” বলে। আন্দোলন টি র অন্যতম সৈনিক অমল সোম যে কিনা শুত্রুপক্ষ থেকে বাঁচতে কলকাতায় তার প্রাক্তন বিধবা প্রেমিকা মঞ্জুরী র বাসায় আশ্রয় নেন। সেখানে অনেক চিন্তা,মান-অভিমান,দুর্বলতা র সমন্বয়ে অস্থির সময় পার করছিলেন অমল সোম।

এখন কিভাবে এতোটা ফ্ল্যাশ ব্যাকে রক্তিমের সাথে অমল সোমের সামঞ্জস্য ঘটে তা একটা গোলকধাঁধা!যা আস্তে আস্তে খুলতে থাকে!

রক্তিম চৌধুরী এবং অমল সোম দু চরিত্রে দুটি ভিন্ন গেটাপে অভাবনীয় অভিনয় করেন জাত অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্য। “ড্রাকুলা” চরিত্র টি তে কিছু জায়গায় এতো শক্ত এক্সপ্রেশন প্রয়োজন ছিল যা কম সে কম খুব কম সংখ্যক অভিনেতা য় দিতে পারে। অনির্বাণ ভার টা ভালোই সামলেছেন।মিমি চক্রবর্তী র ক্যারিয়ারে “বোঝেনা সে বোঝেনা” চলচ্চিত্রের চরিত্রটির পর সেরা চরিত্র নিঃসন্দেহে “মঞ্জুরী”। বাকিরা তাঁদের জায়গায় সেরা টা দিতেই যথেষ্ট সচেষ্ট ছিলেন।

টেকনিক্যাল সাইট থেকে চলচ্চিত্র টি কলকাতা অনুপাতে খুব স্ট্রং। এমন সিনেমাটোগ্রাফি, নাইট শট, মেক আপ, ডেকোরেশন, এডিটিং কলকাতার খুব কম সংখ্যক চলচ্চিত্রেই দেখা গেছে।
সবচেয়ে যেটা ভালো লেগেছে সেটা হলো গান, আর্থবহুল গভীর সংলাপ আর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক। চলচ্চিত্র টি তে মোট তিনটি গান ব্যবহার করা হয়েছে। তিন টিই খুব শ্রুতিমধুর।

নেগেটিভ সাইট

মনে হয়েছে কাহিনী টাকে আরো পরিষ্কার করা উচিত ছিল।অতিরিক্ত সংক্ষিপ্ত ভাবে চিত্রনাট্য লেখা হয়েছে। কিছু কিছু শট অপ্রয়োজনীয়ভাবে টেনে লম্বা করা হয়েছে।

তবে বাংলা চলচ্চিত্রে নিঃসন্দেহে “ড্রাকুলা স্যার” একটি ইউনিক চলচ্চিত্র হয়ে থাকবে।দারুণ প্রয়াস!
নিঃসন্দেহে গত দশকের গোড়ার দিকে টালিপাড়ার চলচ্চিত্রে যে পরিবর্তন দেখা গেছে তা বর্তমানে অভাবনীয়। প্রযোজক রা রিস্ক নিচ্ছেন বলেই ভালো ভালো কন্টেন্ট বের হচ্ছে। পরিবর্তনের ধারা অব্যাহত থাকুক।

About the Author: Amar Subtitle

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *