SCAM1992

Scam 1992 : The Harshad Mehta Story রিভিউ

মির্জাপুরের চেয়েও যে সিরিজটা বর্তমানে হাইপে আছে তার নাম ‘Scam 1992 : The Harshad Mehta Story’। সবার নজরে এই মিনি ওয়েব সিরিজের কথা তখন আসে যখন এর আইএমডিবি রেটিং নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। রিভিউটা লেখার সময়ও এর রেটিং ছিলো ৯.৬! সাড়ে ৩৩ হাজার মানুষ রেটিং দিয়েছে যার মধ্যে ২৯ হাজারের উপর ব্যবহারকারী দিয়েছে ১০ এ ১০। মানে শতাংশে দাঁড় করালে হয় প্রায় ৮৭% মানুষের সিরিজটা এত সেরা লেগেছে যে, তারা নাম্বার কাটার সুযোগই পাননি। রেটিং এর বিষয়টা প্রথমে আসে Sony Liv এর পক্ষ থেকেই, যারা শুরুতে দাবী করে Scam ১৯৯২ আইএমডিবিতে বর্তমানে ভারতীয় সিরিজের তালিকায় ১ম স্থানে। এই প্রথম স্থান কিন্তু এখনো বজায় আছে। তবুও জনসাধারণের কাছে এই সিরিজের নাম চোখে পড়ে তখন, যখন কিছু সরকারি গেজেটড বলদেরা Breaking Bad এর সাথে এর তুলনা দিয়ে বিভিন্ন মীম বানানো শুরু করে। এরা যে সিরিজ না দেখেই লাফিয়েছে, তা তারা তাদের পোস্ট দিয়েই প্রমাণ করেছে। তবে সবার মনেই প্রশ্ন আসছে, সিরিজটা কি ওভাররেটেড না তো? এত ফালাফালির মাঝে প্রচুর দর্শক একটু হলেও কনফিউজড হচ্ছে এটা ভেবে যে, দেখবো কি দেখবো না। আসুন, এবার আপনার বিভ্রান্তি এবং রেটিং এর প্রসঙ্গে কয়েকটা পয়েন্টের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করি।

★ সিরিজের পরিচালনায় ছিলেন Hansel Mehta। যিনি Shahid (2012), Aligarh (2015), Omerta (2017) এর মতো ক্রিটিক্যালি একক্লেইমড কিছু মুভি করেছেন। যারা তার মুভিগুলো দেখেছেন তারা জানেন এই ব্যক্তির পরিচালনা কেমন হয়ে থাকে।

★ সিরিজের কাস্টিং ছিলো এক শব্দে অনবদ্য। নামকরা কাউকে এখানে দেখতে পাবেন না, তবে মজার ব্যাপার হলো অনেককেই আপনার চেহারা দেখে হয়তো চিনতে পারবেন। এরা কেউ কেউ ২-১ টা মুভিতে ছোটবড় বিভিন্ন ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। এছাড়া, অনেকে তো টিভি সিরিয়ালেও কাজ করেছেন। তবে, সিরিজে সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে ৯৯.৯% না, পুরো শতভাগ ঢেলে দিয়েছেন। শুধু প্রধান চরিত্রে থাকা Pratik Gandhi নয়, বাকি সবগুলো ক্যারেক্টার কেউ কারোর চেয়ে কম ছিল না। বলিউডে বহিরাগত অভিনেতারাও যে যোগ্যতার দিক থেকে বাকিদের সমান, তা সিরিজ দেখলেই প্রমাণ হাতেনাতে পেয়ে যাবেন।

★ রাইটিং ছিল ‘Scam 1992’ এর আরেকটি শক্তিশালী দিক। ১০ এপিসোডের এই সিরিজের প্রতিটা পর্ব খুবই সূক্ষ্মতার সঙ্গে লেখা হয়েছে। পুরো সিরিজে একটা দৃশ্য এমন বলতে পারবেন না যে, এই দৃশ্যটা না দেখালেও পারতো। পুরো কাহিনী একদম টু-দা-পয়েন্টে ছিল, যা দেখার সময় বিরক্তি নিয়ে আসেনি। যতটুকু দরকার, ঠিক যেন ততটুকুই পর্দায় দেখানো হয়েছে। কোনো অযথা দৃশ্য নেই, অযথা গালমন্দ নেই, নেই এক ফোঁটাও অশ্লীলতা। এমন মাল মসলা ছাড়াও যে আজকাল দুর্দান্ত ওয়েব সিরিজ বানানো যায় সেটা দেখিয়ে দিয়েছে পরিচালক ও রাইটাররা। তাছাড়া, শুরু থেকে শেষ অবধি একটা সিরিয়াস ভাব ছিলো সিরিজটিতে। অহেতুক কমেডি না দেখিয়ে সবকিছুকে নরমাল রাখা হয়েছে যাতে আমরাও দেখে বুঝতে পারি যে, এটা কোনো রংতামাশাওয়ালা সিরিজ নয়। অন্যদিকে, শেয়ারমার্কেট ও ব্যাংকিং সম্পর্কিত বিষয়গুলোও একেবারে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। যাতে আপনার মনে না হয়, এটা কিভাবে হলো, বা ওটার মানে কি। মেহতার বিরুদ্ধে এলিগেশনগুলারও ব্যাখ্যা রয়েছে। মানে, কোনো কিছুই মিস করা হয়নি।

★ সিরিজের ভিজুয়াল ইফেক্টস এবং প্রোডাকশন ডিজাইন আপ-টু-দা-মার্ক ছিল। ৮০ ও ৯০ এর দশকের বোম্বের প্রকৃত রূপকে যথাযথভাবে দেখানো হয়েছে। এছাড়া ঐ সময়কার অফিসের ডিজাইন যেমন ছিল, সিরিজেও ঠিক তেমনই দেখানোর পাশাপাশি পোশাকের দিকেও বেশ ভালো নজর রাখা হয়েছে। তাছাড়া সিনেমাটোগ্রাফি নিয়ে তো প্রশ্নই তোলা পাপ হবে। তাই, সিরিজের ক্রিয়েটিভ ব্যাপারগুলোর দিকেও বিন্দুমাত্র কমতি রাখা হয়নি।

★ আমরা যারা নিয়মিত সিরিজ দেখি তারা অনেকেই ইন্ট্রো বাদ দিয়ে এগিয়ে যাই। কিন্তু, ‘Scam 1992’তে আছে জোস একটা ইন্ট্রো মিউজিক। শুরুর ইন্ট্রোতেই একটা ইনার্জি এসে পড়বে বাকি পুরা এপিসোড দেখার জন্য। এছাড়া, সাউন্ড ডিজাইনিংও অসাধারণত ছিলো। যখন শেষ পর্বে মেহতাকে পুলিশ বাসা থেকে নিয়ে যাচ্ছিল আর পেছনে KBC’এর ভাসা ভাসা সাউন্ড আসছিলো, তখন পুরো পরিবেশটাই অন্য পর্যায়ে চলে যায়। লাগবে, কিছু একটা শেষের দিকে এগিয়ে চলেছে।
★ সিরিজে আছে কিছু অস্থির ডায়লগ। একটা তো ইতোমধ্যেই জনপ্রিয় হয়ে গেছে, “Risk hai too ishq hai”। বাকিগুলাও কম হয়, যেমন – ” Success kya hai? Failure ke baad ka Chapter”. আর ব্যক্তিগত প্রিয় ডায়লগ হচ্ছে, “Emotion mein insaan humesha galti karta hai!”।

পরিশেষে, একটা পারফেক্ট সিরিজ তৈরি করতে যা যা উপাদান লাগে তা সবই ছিলো ‘Scam 1992’তে। প্রতিটা উপাদানকে যত্নের সাথে ব্যবহার করা হয়েছে এখানে। একজন ফ্রডকে কিভাবে বিত্তশালী ও প্রভাবশালী হওয়ার পরও হিরোর মতো না দেখিয়ে একজন মানুষের বৈশিষ্ট্যগুলোর মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলতে হয়, তা এই সিরিজ না দেখলে বোঝার উপায় নেই। সবচেয়ে বড় কথা, পুরো সিরিজটা অরিজিনাল লাগবে। মনে হবে না, কোনো কিছুর কপি করেছে বা নকল।

তাই, ১নং ভারতীয় সিরিজ হয়ে যাওয়ার পেছনের কারণগুলো আশা করি ধরতে পেরেছেন। তাছাড়া আরো অনেক কারণ রয়েছে, যা হয়তো দেখার সময়ই ধরতে পারবেন। যারা দেখেছেন, তারা কমেন্টে মতামত জানাতে পারেন। আর যারা দেখেননি, পোস্ট যদি পুরোটা পড়ে থাকেন তাহলে বুঝতেই পারছেনন যে, যাই হোক দেখে ঠকবেন না।

About the Author: Amar Subtitle

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *